August 15, 2020, 2:22 am

নোটিশ
সারা বাংলাদেশে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে...
ফররুখ আহমদঃঐতিহ্যের নাবিক

ফররুখ আহমদঃঐতিহ্যের নাবিক

ফররুখ আহমদঃ ঐতিহ্যের নাবিক ওবাইদুর সাঈদ
ফররুখ আহমদ

বাংলার অধঃপতিত মুসলিম সমাজের পুনর্জাগরনের অনুপ্রেরণা ইসলামী ভাবধারার বাহক। আধুনিকতার সকল লক্ষণ যার কবিতায় পরিব্যপ্ত। তিনি কবি ফররুখ আহমদ।

জন্ম ও পরিবারঃ

সাত সাগরের মাঝি বাংলা সাহিত্যের মতো অমর স্রষ্টা কবি ফররুখ আহমদ ১৯১৮ সালে তৎকালীন যশোর জেলার অন্তর্গত মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার গ্রামে ১০ জুন জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা সৈয়দ হাতেম আলী ছিলেন একজন পুলিশ ইন্সপেক্টর। ফররুখ আহমদের মায়ের নাম রওশন আখতার। ১৯৪২ সালের নভেম্বর মাসে আপন খালাতো বোন সৈয়দা তৈয়বা খাতুন (লিলি)-এর সঙ্গে ফররুখ আহমদের বিয়ে হয়।তার নিজের বিয়ে উপলক্ষে ফররুখ ‘উপহার’ নামে একটি কবিতা লেখেন যা ‘সওগাত’ পত্রিকায় অগ্রহায়ণ ১৩৪৯ সংখ্যায় ছাপা হয়।

শিক্ষাজীবনঃ

ফররুখ আহমদ খুলনা জেলা স্কুল থেকে ১৯৩৭ সালে মেট্রিক এবং ১৯৩৯ সালে কলকাতা রিপন কলেজ থেকে আই.এ পাস করেন। এরপর স্কটিশ চার্চ কলেজে দর্শন এবং ইংরেজি সাহিত্য নিয়ে পড়াশোনা করেন। ছাত্রাবস্থায় বামপন্থী রাজনীতি শুরু করলেও চল্লিশ দশকে তাঁর রাজনৈতিক পরিবর্তন আসে।

কর্মজীবনঃ

কর্মজীবনের শুরুতে ১৯৪৩ সালে আইজি প্রিজন অফিসে, ১৯৪৪ সালে সিভিল সাপ্লাইতে এবং ১৯৪৬ সালে কলকাতার জলপাইগুড়িতে একটি ফার্মে চাকরি করেন। দেশ বিভাগের পর কলকাতা থেকে ঢাকায় এসে “ঢাকা বেতারে” যোগদান করেন ১৯৪৮ সালে। তিনি মাসিক “মোহাম্মদী” এর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকও ছিলেন।

রচনাবলীঃ

আরবি ও ফারসি শব্দের প্রাচুর্য ফররুখ আহমদের লেখার অন্যতম বৈশিষ্ট্য। ইসলামী ঐতিহ্যের প্রতি ছিল তার অগাধ আস্থা। সাহিত্যের নানা শাখায় বিচরণ করলেও তার প্রধান পরিচয় তিনি “কবি”। তার রচনায় ধর্মীয় ভাবধারার প্রভাব দেখা যায়। তিনি ভারত ভাগ তথা পাকিস্তানের সমর্থক ছিলেন। কিন্তু পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে বাংলার সমর্থন করতেন। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর পরই আশ্বিন ১৩৫৪ সংখ্যা মাসিক “সওগাত” এ পাকিস্তান রাষ্ট্র ভাষা ও সাহিত্য নিবন্ধে লেখেন “গণতান্ত্রিক বিচারে যেখানে সমগ্র পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা হওয়া উচিত সেখানে পূর্ব পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষাকে পর্যন্ত যাঁরা অন্য একটি প্রাদেশিক ভাষায় রূপান্তরিত করতে চান তাদের উদ্দেশ্য পূর্ব পাকিস্তানের সকল অধিবাসী এর সাথে এই প্রতারকদের বিরুদ্ধে আমার প্রতিবাদ জানাচ্ছি”। “সাত সাগরের মাঝি”, “সিরাজুম মুনিরা”, “হাতেমতায়ী”, “সিন্দাবাদ” সহ অসংখ্য কাব্যগ্রন্থ রচনা করেন। “পাখির বাসা”, “ছড়ার আসর”, ইত্যাদি শিশুতোষ গ্রন্থ রচনা করেন কবি ফররুখ আহমদ।

পুরস্কারঃ

কবি ফররুখ আহমদ ১৯৬০ সালে “বাংলা একাডেমী” পদক, ১৯৬৬ সালে “আদমজী সাহিত্য পুরস্কার” ও “ইউনেস্কো” পুরস্কার লাভ করেন। তিনি মরণোত্তর “একুশে পদক” ও “স্বাধীনতা পদক” যথাক্রমে ১৯৭৭ ও ১৯৮০ সালে লাভ করেন।

মৃত্যুঃ

একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশী বিংশ শতাব্দীর এই কবি ১৯৭৪ সালের ১৯ অক্টোবর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ইসলামি ভাবধারার বাহক হলেও তার কবিতা প্রকরণকৌশল, শব্দচয়ন এবং বাক্‌প্রতিমার অনন্য বৈশিষ্ট্যে সমুজ্জ্বল।

ইসলামি ভাবধার কবি ফররুখ আহমদের ১০২ তম জন্মদিনে কবি কে শ্রদ্ধার সাথে স্বরণ করছি।

 

ওবাইদুর সাঈদ।।

গনমাধ্যমকর্মী ও শিক্ষার্থী

পরিসংখান বিভাগ ,ঢাকা কলেজ,ঢাকা

https://www.facebook.com/obaidur.sayeed

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2019 nobopotro.Com
Desing BY AKM SUMON MIAH